চরফ্যাশন (ভোলা) সংবাদদাতা
চরফ্যাশন উপজেলার শশিভূষণ থানার প্রত্যন্ত গ্রাম রসুলপুর। এ গ্রামের কলেরহাট এলাকার মানুষের আতন্কের নাম সোবহান দালাল। জমি দখল, চাঁদাবাজি, বিধবা-বয়স্ক ও পঙ্গুভাতা, ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ড এর নামে দরিদের থেকে হিস্যা আদায়, ভূমি হিনদের নামে বন্ধবস্ত নেয়া ভূমি জবর দখল ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, ধর্ষণ, জমি দখল সোবহান দালালের অন্যতম পেশা। দীর্ঘ দিন থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এ অপকর্ম চালিয়ে গেলেও বিএনপির একজন কর্মী দাবি করে ৫ আগস্ট-২০২৪ থেকে লাগামহীন বেপরোয়া সে। তার অপকর্মে নি:শেষ কাজলের একটি পরিবারই তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কারন একই চিত্র প্রায় গোটা গ্রামে।
সম্প্রতি সোবহান দালাল তার স্ত্রী, ছেলে মেয়েদের নিয়ে তাঁর সৎ ভাই কাজলকে আক্রমণ করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে কাজলের ঘরে লুটপাট, ভাংচুর চালায়। তারা ওই বাসা থেকে বিদেশি কম্বল, কার্পেট, বালিশ, মশারী বেডসিট, ক্রোকারিজ, লাইট ফ্যান, মোবাইল, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, সোলার ব্যাটারিসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
কাজলের মাছের খামার দখল করে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে।
খামারের পারে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২ লক্ষ টাকার গাছ কেটে বিক্রি করে ফেলে, এখানে অনেক ফলজ গাছ ও সে কেটে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে সোবহান কাজলের খামার থেকে প্রমাণ মুছে ফেলতে গাছের গোড়া তুলে নিয়ে খামারের পার ঢলিয়ে দেয়।
৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সোবহান কাজলের খামার থেকে কমপক্ষে ১ লাখ টকার নারিকেল, সুপারি, আম,কলা,আমরা,লিচু গাব,খেজুরের রস বিক্রি করে। সোবহান ফল বিক্রি করেই শান্ত হয়নি দুই একটি ফল গাছ রেখে বাকি সব কেটে লাকরি হিসেবে বিক্রি করে দেয়।
কাজলকে সপরিবারে বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ৩০ বছর ধরে কাজলেরর পরিবারের ওপর নানা ধরণের নির্যাতন চালিয়েছে সোবহান দালাল ও তার পরিবার। সোবহান দালালের নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে ২০১৫ সালে কাজলের পরিবার বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়।
এ সময় কাজল জায়গা জমি বিক্রি করে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাইলেও সোবহান ক্রেতাদের ভয় দিখিয়ে তাড়িয়ে দিত। ফলে ব্যার্থ হয়ে কাজল ভিটামাটির মায়ায় পরে সোবহান দালালের সকল নির্যাতন সহ্য করে ওই বাড়িতে একাই থেকে যায়।
কাজলের স্ত্রী তাঁর এক ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাসে উদ্দেশ্যে ৩ মে-২০২৫ বাড়িতে গেলে সোবহান দালাল কাজলের পরিবারকে গৃহবন্দী করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। সোবহান দালাল কাজলের পরিবারকে বলে এই বাড়িতে বসবাস করতে চাইলে আমাকে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং ৪০ শতাংশ জমি লিখে দিতে হবে।তাছাড়া কোনভাবেই আমি তোদের এই বাড়িতে বসবাস করতে দিব না।
খামারের দিকে তাকালে চোখ উপরে ফেলবো। খামারের কাছে গেলে হাত-পা ভেঙে দিবো। ঘরে মাদক, অস্র রেখে মামলায় ফাঁসাব। প্রয়োজনে খুন করে লাশ গুম করে দিবো।
প্রতিবেশীরা কাজলের পরিবারের সাথে দেখা করতে আসলে সোবহান দালাল তাদেরকে বলে কেউ যদি এই পরিবারের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা কোন প্রকার সহযোগিতা করার চেষ্টা করে তাহলে আমি তাদেরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ভিটামাটি ছাড়া করবো। সোবহান দালালের ভয়ে প্রতিবেশিরা কাজলের পরিবারের সাথে সবধরনের যোগাযোগ এবং সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়। কাজলের পরিবারকে বেতুয়া ঘাট থেকে কলেরহাটে নিয়ে যাওয়া রিকশাচালক ফরিদ ওই পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজলের পরিবারকে পানি,
শুকনো খাবার কিনে দেয়ার অপরাধে রিক্সা চালককে মারধর করে সোবহান ও মহিউদ্দিন ।পরিস্হিতি বেগতিক দেখে কাজলের পরিবার সহকারী পুলিশ সুপার চরফ্যাশনকে ফোন করে সাহায্য চাইলে তিনি শশীভূষন থানার এক এসঅইকে পাঠান। পরে পুলিশ অফিসারের পরামর্শে থানার গিয়ে জিডি করেন। জডি -১২৪তারিখ-৪/৫/২০২৫। এতে কোন ফল না পেয়ে বাড়ি ছাড়া হয় কাজলের পুরো পরিবার। এ সুযোগে থানা পুলিশের যোগসাযসে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কাজলের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট মামলা করে সোবহান দালাল।
ইলিশ মাছের দালালী ও ট্রলারে কাজ করার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করলেও খাস জমি দখল, জমির দালালীরএই পেশায় যুক্ত হয়ে মহাজনদের লাখ লাখ টাকা আত্মসাত, মাছের ট্রলার ডাকাতি। ট্রলারের মাঝি মাল্লাদের টাকা আত্মসা করে,এক পর্যায়ে নদী যৌথ বাহিনির ব্যাপক আভিজানে টিকতে না পেরে জীবন বাঁচতে সোবহান গা ঢাকা দিয়ে চরের জমি দখল বাণিজ্য শুরু করে। জমি মালিক বানানোর কথা বলে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সে। তাঁর প্রতারণা থেকে বাদ পরেনি নিজের মেয়ের জামাই এবং ভাগিনা জাহাঙ্গীর। সোবান তার বাড়ির আশপাশের খাস জমি দখল করে ভোগ করছে। বোনদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করেছে।
ধর্ষক সোবহান দালালের হাত থেকেওই গ্রামের হত-দরিদ্র গৃহবধূ থেকে বাদ যায়নি নিজের ওরশ জাত কণ্যাও।
প্রতিবেশী কুদ্দুস মিয়ার বাড়ি দখলের জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে কদ্দুসকে নিঃস্ব করে ছেড়েছে। প্রতিবেশী ইমরান মাঝির জমি দখল করে রেখেছে। জসিমের কাছে জমি বিক্রি করে জসিমকে জমি দখল না দিয়ে ওই জমি নিজেই ভোগ করছে।
ভাসানচরে বাবুর ৮০ শতক জমি দখল করে রেখেছে। গরিবের জন্য আসা চাল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। আজগর আলীর চাষ দেয়া জমি থেকে তাকে উঠিয়ে দিয়ে নিজেই ফসল চাষ করছে।
কেউ তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে তার চরিত্র হনন কররা উদ্দেশ্যে কুৎসা রটনো, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তাকে সর্বশান্ত করার মাধ্যমে এলাকা বাসিকে সোবহান দালাল মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করে রেখেছে। শাজাহান হাওলাদারের দেড় একর জমি এবং রুবেল ব্যাপারির দেড় একর জমি দখল করে ভোগ করছে সোবহান দালাল।
এক সময় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব অপকর্মের হোতা সোবান দালাল ইঊনিয়ন বিএনপির নেতাদের আর্শিরবাদে এখনো আছেন বহালতবিয়তে, ইতিমধ্যে সোবহান নেতাদের কয়েক দপা ভূড়িভেজের মাধ্যমে তার আবস্থান মজবুত করে নিয়েছেন স্হানীয় বিএনপির রাজ নীতিতে।



