নিজস্ব প্রতিবেদক
বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং ও প্রকৌশল বিভাগে ছড়িয়ে পড়েছে বহুমাতৃক দুর্নীতি। এতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এখানে কর্মরত একটি চক্র। তারা রীতিমত সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এই দুর্নীতি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে প্রতিষ্ঠানের সচেতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের অভিযোগ। তারা এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও দুদকের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত দাবি করেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, সরকারের উন্নয়নের খাতের খরচকে পাশ কাটিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া এ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড্রেজিং বিভাগ থেকে বদলিকৃত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। তিনি তার অপতৎপরতা সুদৃঢ় করতে প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী হবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সদস্য প্রকৌশল এ কে এম ফজলুল হকের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় । ওই পদে পদোন্নতি পান. এ কে এম ফরহাদুজ্জামান।
সূত্রমতে, ছাইদুর রহমান নামের এই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার আমলে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর বদান্যতা নিয়ে একজন বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত প্রকৌশলী ছিলেন ।তার হাতে রয়েছে অজস্র কালো টাকা। এখনও খোলাস পাল্টে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তিনি নিজের বলয়কে অতি শক্তিশালী করতে ড্রেজিং বিভাগে কর্মরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ভূঁইয়াকে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রকৌশল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা করেন।(স্মারক নং ১৮-১১ ০০০০ ০০০ ০০৮, ১২.০০১.২০.৫৬৮ দপ্তর আদেশ নং ২৪৪৫/ ২০২৫) এই পদোন্নতি পত্রে স্বাক্ষর করেন মো. মিজানুর রহমান, পরিচালক মানব সম্পদ ।
ড্রেজিং বিভাগের একটি সূত্র জানায়, মিজানুর রহমান ভূঁইয়াও দুর্নীতিগ্রস্ত। তার রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।গত ছয় বছরে তিনি শুধু টেন্ডার বাণিজ্যই করেছেন ৮০ কোটি টাকার উপরে। তিনি কখনো তার অধস্তন প্রকৌশলীদের টেন্ডার করতে দিতেন না।তার নিজস্ব আইডি দিয়ে টেন্ডারের কাজকর্ম করা হতো, যা তদন্ত ও অনুসন্ধান করলেই জানা যাবে। তার পছন্দের ঠিকাদারদের ১০% পার্সেন্টে কাজ দিতেন । দুর্নীতির একটি অংশের টাকা দিতেন ড্রেজিং বিভাগের ওই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে। মিজানুর রহমান ভূঁইয়া একটি প্রকল্পের ফিসিবিলিটি স্টাডি এর সাথে জড়িত রয়েছেন। পাশাপাশি ড্রেজিং বিভাগে লুটপাটে যা করার সব করতেন ছাইদুর রহমানের বদান্যতায়।
সূত্রটির দাবি, মিজানুর রহমানের ভাই একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।তাই অবৈধ টাকা ভাইয়ের মাধ্যমে নিরাপদ করা তার জন্য সহজ।অফিসে তার কাজই হচ্ছে টেবিলে টেবিলে ঘোরাফেরা। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চেইন ঠিক রাখা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজটি করেছেন তিনি অত্র প্রতিষ্ঠানের অফির্সাস এসোসিয়েশন নির্বাচনে। তিনি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার। ওই নির্বাচনে তিনি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেনুকুয়েশন করে রকিবুল ইসলাম ও আরিফ হাসনাত প্যানেলকে জয়ী করেন বলে অভিযোগ। এই প্যানেলেই ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে রয়েছে ছাইদুর রহমান, আবু জাফর মো: শাহনেওয়াজ কবির, মতিউল ইসলাম গং। যারা প্রত্যেকেই কোন না কোনভাবে অভিযুক্ত।
সূত্রের দাবি, মিজানুর রহমান ভুইয়া অফিস ছুটি হলেও অফিসে বসে নানা পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।তাই তিনি অফিস থেকে বের না হওয়া পযর্ন্ত অধ:স্থনদের বসে থাকতে হয়। কেউ কোন উচ্চবাচ্য করতেও সাহস পান না। তার এসব আচরণ, দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে ছাইদুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি এসবের কিছুই জানিনা।



