বাংলার আয়না

নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আ’ লীগের যোগসাজশ আশঙ্কা করছি: নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা আশঙ্কা করছি যে, এই নির্বাচনে ভারত, আওয়ামী লীগের এবং বিএনপির মধ্যে যোগসাজশ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকটাকে বিএনপি নিজের মধ্যে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এটা আমরা আগেও বলেছি, এটা নতুন কথা না। বিএনপির বিভিন্ন বক্তব্যে..মঞ্চে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া, আওয়ামী লীগের লোকজনদেরকে পুনর্বাসন করা, হত্যা মামলার আসামিদেরকে দলে ভেড়ানো এগুলো স্থানীয় পর্যায়ে হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের বিনিময়ে যদি তাদের পুনর্বাসন করা হয়, তাহলে প্রতিহত করা হবে। গত দেড় বছরে প্রশাসন অনেক জায়গায় ব্যর্থ হলে জনগণ প্রতিরোধ করেছে। ফ্যাস্টিস্টবিরোধী জনগণ তা প্রতিরোধ করেছে।’

এসময় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘সারাদেশে জেলায়, উপজেলায় বিচার চলমান আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হচ্ছে। আর মিডিয়ায় উৎসবের সঙ্গে প্রচার করছে এবং উৎসাহ দিচ্ছে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আশাহত হয়েছি, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা শপথ নিয়েছি। কিন্তু প্রথমদিনেই শপথ গ্রহণ নিয়ে সরকার সবার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে শপথ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম যারা এ নির্বাচনে সরকার গঠন করবেন তারা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবেন। কিন্তু এ মন্ত্রিসভা দেখে মনে হয়নি এটি আমাদের পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা সেটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং এটি পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা। নতুন মন্ত্রিসভা প্রতিনিধিত্বমূলক হয়নি এবং এখানে সব জাতীগোষ্ঠীর সমন্বয় করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপি সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ গ্রহণ করেনি। ফলে গণভোটে যে গণরায় এসেছে শপথ গ্রহণ না করে তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ নিজ ঘর থেকে করতে হবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন কিন্তু আমরা জানতে চাই বিএনপির সংসদ সদস্যরা কবে তাদের ঋণ পরিশোধ করবেন। বাংলাদেশের মানুষ সেটা জানতে চায়।

গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত এবং দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের যে স্বপ্ন ছিল, তা বর্তমানে প্রশ্নবিদ্ধ ও আশাহত বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।

Scroll to Top