বাংলার আয়না

বিআইডব্লিউটিএ-তেও সক্রিয় সিন্ডিকেট!

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী সমীর চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অবৈধ অর্থ উপার্জন নিয়ে ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কার্যালয়ে অভিযোগ পড়লেও তা ধামাচাপা দেবার গুঞ্জন উঠেছে। কথা উঠেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল বিভাগের একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বদান্যতায় তিনি দুর্নীতি করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের একটি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ড্রেজিং বিভাগের এই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নাম সাইদুর রহমান। তার বিরুদ্ধে ৫/৬ মাস আগে দুর্নীতি অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে তাকে বদলি করা হয় প্রকৌশল বিভাগে। তার বাড়ি উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রাম শহরে। তিনি ছিলেন শেখ হাসিনা আমলের নৌ পরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন। দুজনই উত্তরবঙ্গ হওয়ায় তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সাইদুর রহমান আবার বঙ্গবন্ধু পরিষদের একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও হালে রং বদলেছে। আবার তারই ঘনিষ্ঠজন হচ্ছেন সমীর চন্দ্র পাল।
সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে তিনি বিআইডব্লিউটিএ তে যোগদান করেন। শুরুতেই তিনি ড্রেজিং বিভাগ কর্মজীবন শুরু করেন এবং বিআইডব্লিউটিএ এর বালাসী-বাহাদুরাবাদ ফেরি রুটের ড্রেজিং কাজ, ভোলা- লক্ষীপুর ফেরি রুট, ঢাকা এর চারপাশের নদী খনন, এবং ৫৩টি নৌ পথের গুরুত্বপূর্ণ খনন কাজের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন কাজ এবং ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল নৌপথের খনন কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি অক্টোবর ২০২২ সালে সহকারী প্রকৌশলী থেকে পদোন্নতি পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হন এবং একই সাথে ড্রেজিং বিভাগ পুনরায় কাজ শুরু করেন। খনন কাজের সুবাদে সমীর পাল অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমানের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেন। যা নতুন করে তদন্ত হওয়া জরুরী।

সূত্র মতে, সম্প্রতি সমীর পাল অবৈধ অর্থ দিয়ে ঢাকার বনশ্রী এলাকায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। সাইদুর রহমান বর্তমানে সমীর পালকে ড্রেজিং বিভাগ থেকে বদলি হয়ে বিআইডব্লিউটিএ এর প্রকৌশল বিভাগে বদলির ব্যবস্থা করছেন। জানা যায় সাইদুর রহমান ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রধান প্রকৌশলী হচ্ছেন প্রকৌশল বিভাগে। যার জন্য তার ছায়ার নিচে তাকে নিতে চাচ্ছেন। সমীর চন্দ্র পালের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, চাকরি জীবনে কোন দুর্নীতি করিনি। মন্ত্রণালয় ও অফিসের সকলেই তাকে ভালো জানেন। সাইদুর রহমানের আরেকজন আস্থাভাজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে তিনি একইভাবে প্রকৌশল বিভাগে এনেছেন। সাইদুর রহমানের ৪টি নদী খনন প্রকল্পের দুর্নীতিতে বিশেষ সহযোগী ছিলেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। দুর্নীতির অভিযোগ থেকে তাকে রক্ষায় ড্রেজিং বিভাগ থেকে অন্য একটি প্রকল্পে প্রেষণে দেওয়া হয়। পরে গত বছর সাইদুর রহমানের সহযোগিতায় আবার প্রকৌশল বিভাগে বদলী করা হয়। ঠিক একই কায়দায় সব ধরনের ফায়দা লুটার পর সমীর চন্দ্র পালকেও একইভাবে সেফ এক্সিট হিসেবে প্রকৌশল বিভাগে পদায়নের পায়তারা চলছে। বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটি-এর শীর্ষ পর্যায় তদন্ত করে দেখা জরুরী হয়ে উঠেছে

Scroll to Top